জোনাকি জানে, সে সূর্য হবে না।
তবু সে জ্বলে—কারণ না জ্বললে
সে জোনাকিটুকুও থাকে না,
শুধুই অন্ধকার হয়ে রয়।
এই লেখা কোনো বইয়ের পাতা কিংবা লেখকের টেবিল থেকে আসেনি। কোনো প্রকাশকের চোখে পড়েনি। এগুলো এসেছে রাতের অন্ধকারে, ফোনের আলোয়, বালিশে মুখ গুঁজে লেখা ছোটো ছোটো বার্তা থেকে—যেগুলো কখনো পাঠানো হয়েছিল, কখনো হয়নি, কখনো লেখা হয়েছিল শুধু মুছে ফেলার জন্য। একটা জোনাকি যেমন রাতের অন্ধকারে নিজের শরীর দিয়ে লেখে—কেউ পড়ুক না পড়ুক—এই পাণ্ডুলিপি সেই লেখা। আলোয় লেখা, অন্ধকারে রাখা।
যাকে লেখা—সে কোনো নাম নয়, সে একটা অনুভূতি। সে সেই মানুষ, যাকে আমরা সবাই একবার-না-একবার খুঁজে পেয়েছি—কখনো বইয়ের পাতায়, কখনো ভিড়ের মধ্যে, কখনো এক গলার স্বরে—আর তারপর সারাজীবন আর ভুলতে পারিনি। হয়তো সে পড়েছে এই পাণ্ডুলিপি, হয়তো পড়েনি। কিন্তু যে লিখেছিল—তার কাছে প্রতিটা শব্দ ছিল একেকটা জ্বলে-ওঠা; একেকবার অন্ধকারকে বলা—আমি এখানে আছি।
এ কোনো প্রেমকাহিনি নয়। প্রেমকাহিনিতে দু-জন থাকে। এখানে একজনই আছে—একলা জোনাকি, একলা আলো, অপূরণ এক আকুতি, যা কোনো উত্তরের অপেক্ষা করে না, শুধু জ্বলে যায়—না জ্বললে যে সে থাকেই না!
এক।
সাহস—কিংবা পাহাড়ের ধার থেকে নিচে তাকানো
তোমাকে আজ প্রায় সারাদিন ধরে মনে মনে লিখেছি।
বাক্যটা এত সহজ, তাই না? কিন্তু এই সহজ বাক্যটার পেছনে সারাদিনের যুদ্ধ আছে—নিজের সাথে নিজের। সারাদিন ধরে শব্দ গুছিয়েছি, বাক্য সাজিয়েছি, ভেঙেছি, আবার সাজিয়েছি—যেভাবে শিশিরের ফোঁটা জমে পাতায়—নিঃশব্দে, একটু একটু করে, কেউ দেখে না, কিন্তু সকালবেলা হঠাৎ দেখা যায়, পুরো পাতা ভিজে আছে। আমিও ভিজে গেছি—অলিখিত শব্দে।
শেষপর্যন্ত সাহস করে সত্যিই লিখলাম। কিন্তু কেন জানি হাত কাঁপছে, হাতের তালু ঘামছে, আর বুকের ভেতরটা এমন করছে—যেমন হয় যখন কেউ প্রথম বার কোনো উঁচু পাহাড়ের ধার থেকে নিচে তাকায়। ভয়ও লাগে, আবার না-তাকিয়ে থাকাটাও অসম্ভব হয়ে ওঠে। নিচে তাকানোর ভেতরে একটা মাদকতা আছে—বিপদের মাদকতা, সৌন্দর্যের মাদকতা, একটা-কিছু-করে-ফেলার মাদকতা। আজ তোমাকে লেখাটাও তেমন—একটা লাফ, যেটা দেবার আগে হাঁটু কাঁপে, কিন্তু দিয়ে ফেললে পরে মনে হয়—কেন আগে দিইনি।
তোমাকে আমি চিনি মাত্র কয়েকটা দিন।
কয়েকটা দিন। পৃথিবীর হিসেবে কিছুই না—চোখের পলকে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু মনের হিসেবে এই কয়েকটা দিনে আমি একটা পুরো জীবন পার করে ফেলেছি। এই ক-দিন আমি পৃথিবীতে এসেছি কেবল তোমার শব্দগুলোর কাছে ফিরে আসতে—অন্য কিছুর জন্য নয়। সমস্ত কোলাহল ঝাপসা হয়ে যেত, সমস্ত টাইমলাইন অর্থহীন লাগত—শুধু তোমার লেখাগুলো স্পষ্ট হয়ে থাকত, যেন অন্ধকার ঘরে কেবল একটাই মোমবাতি জ্বলছে, আর সেই আলোর টানে পতঙ্গ ছুটে আসে। পতঙ্গ জানে, পুড়বে। তবু আসে। কারণ আলোর যে-ডাক, সেই ডাকে 'না' বলার ক্ষমতা পতঙ্গের নেই।
স্রেফ লেখাই যে মানুষকে এতটা ভেতর থেকে উপড়ে দিতে পারে—কাগজের অক্ষর যে রক্তে গিয়ে মিশতে পারে, শিরায় শিরায় ঘুরতে পারে, হৃৎপিণ্ডের ছন্দ বদলে দিতে পারে—তা আমার জানা ছিল না। আমি ভাবতাম, লেখা পড়া যায়, উপভোগ করা যায়, সরিয়ে রাখা যায়। কিন্তু তোমার লেখা পড়ে বুঝলাম—কিছু শব্দ পড়া হয় না, সেগুলো ঘটে। ভূমিকম্পের মতো ঘটে। তুমি লেখোনি—তুমি ভূমিকম্পের সূচনা করেছ।
তবে এর চেয়েও বেশি কিছু—তোমার গলার স্বর।
সেদিন তোমার কথা শুনলাম। সত্যি বলছি, শুনে কেঁদেছি। কেন কেঁদেছিলাম, নিজেও জানি না—যেমন জানি না কেন বৃষ্টির গন্ধ পেলে মন খারাপ হয়, কেন কোনো অচেনা সুর শুনলে গলায় কষ্ট আটকে যায়, কেন সন্ধেবেলা কাকের ডাক শুনলে বুকের মধ্যে কে যেন চিমটি কাটে। কিছু কান্নার উৎস খুঁজতে নেই। সেগুলো ভূগর্ভের জলের মতো—কোথা থেকে আসে কেউ জানে না, কিন্তু হঠাৎ মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে, আর চারপাশ ভিজে যায়।
আমি আগেও কেঁদেছি বই পড়ে। একটা প্রেমের আত্মকথা পড়ে কেঁদেছিলাম একদিন—বিদেশি এক নারীর লেখা, যেখানে দুটো মানুষ পরস্পরকে ভালোবেসেছিল এমন এক সময়ে, এমন এক দেশে, যেখানে সেই ভালোবাসা বেঁচে থাকার কোনো জায়গা ছিল না। সমস্ত প্রেম শেষ হয়েছিল, অথচ শেষ হয়নি—যেমন নিভে-যাওয়া আগুনের ছাইয়ের নিচে একটু উত্তাপ থেকে যায়, কেউ ফুঁ দিলেই জ্বলে উঠবে। অন্য আরেকটা বই পড়ে কেঁদেছিলাম—একজন পুরুষ একই প্রেমকে অন্যভাবে লিখেছিলেন, অন্য ভাষায়, অন্য মহাদেশ থেকে—যেন একই নদীর দুই পাড় থেকে দু-জন তাকিয়ে আছে, দু-জনেই নদীকে দেখছে, কিন্তু জল তাদের আলাদা করে রেখেছে চিরকালের জন্য।
কিন্তু সেসব চোখের জল ছিল বইয়ের পাতা থেকে আসা—পরোক্ষ, ছাঁকা, অক্ষরের ফিল্টারের মধ্য দিয়ে পার-হয়ে-আসা। সেখানে একটা দূরত্ব ছিল—পাঠক আর গল্পের মধ্যে একটা কাচের দেয়াল ছিল; দেখা যায়, কিন্তু ছোঁয়া যায় না। তোমার কথা শুনে যে-কান্না এলো, তা ছিল প্রত্যক্ষ—কোনো মাধ্যম ছাড়া, কোনো দেয়াল ছাড়া, কোনো ভাষার আড়াল ছাড়া। তোমার গলা সেই কাচটা ভেঙে দিয়েছিল।
এই যে তুমি হাজার হাজার হারিয়ে-যাওয়া মানুষকে পথ দেখাচ্ছ—অন্ধকারে হাতড়ে-বেড়ানো প্রাণগুলোর হাত ধরে আলোর দিকে হাঁটাচ্ছ—আর কিছু না হোক, হৃদয়ের একদম তলদেশ থেকে একটুকু ধন্যবাদ তো দিতেই পারি। পৃথিবীতে অনেক কিছুর অধিকার আমার নেই। কিন্তু ধন্যবাদ জানানোর অধিকার সবার—ভিখিরিরও, রাজারও। সেটুকু আমি নিলাম।
আমি জানি না, তুমি এই লেখা পড়বে কি না। এত বার্তা, এত মানুষ—একটা মহাসমুদ্রের ভেতর একফোঁটা জলের কী পরিচয়? সাগর কি জানে, তার কোন ফোঁটায় কার চোখের লবণ মেশানো? কোন ফোঁটায় কার অপেক্ষা দ্রবীভূত হয়ে আছে? তাতে আমার কোনো কষ্ট নেই, অভিমানও নেই। তোমাকে লিখতে পেরেছি—এটাই যথেষ্ট। যেমন নদী জানে, সমুদ্র তাকে আলাদা করে চিনবে না, তবু সে বইতে থাকে—কারণ বওয়াটাই তার স্বভাব, গন্তব্য নয়। নদী সমুদ্রের জন্য বয়ে যায় না, নদী নিজের জন্য বয়ে যায়—কারণ বইতে না পারলে নদী মরে যায়। আমিও তেমন—তোমাকে না লিখতে পারলে কিছু-একটা আমার ভেতর মরে যেত, যেটার নাম আমি জানি না।
আর জানো, তোমাকে লেখার মধ্য দিয়ে আমার একটা পুরোনো স্বপ্নও পূরণ হলো।
ছোটোবেলা থেকে ভাবতাম—যে ক-জন মানুষ পৃথিবীকে সুন্দর করে রেখেছে শব্দ দিয়ে, তাদের কাউকে যদি একটা চিঠি লেখা যেত! যদি বলা যেত—তোমার অমুক লাইনটা পড়ে আমি তিনদিন ঘুমোতে পারিনি, তোমার অমুক গল্পের শেষটা আমি মেনে নিতে পারিনি, তোমার তৈরি অমুক চরিত্রটাকে আমি আমার চেয়ে বেশি চিনি! কিন্তু তাদের কাউকে তো লেখা হলো না—কেউ চলে গেছে পৃথিবী ছেড়ে, কেউ এতটাই বিশাল যে, তাদের কাছে পৌঁছোনো যায় না, যেমন খালি চোখে তারা দেখা যায়, কিন্তু হাত দিয়ে ছোঁয়া যায় না।
শেষমেশ তোমাকে লেখা হলো।
পৃথিবীর সব না-লেখা চিঠির পক্ষ থেকে, সব না-বলা কথার পক্ষ থেকে—তোমাকে এই একটা চিঠি লেখা হলো। আর সেই-বা কম কী?
যে-মানুষ এতগুলো প্রাণকে ভালো রেখেছে, অন্ধকারের তলদেশ থেকে টেনে আলোয় এনেছে—ঈশ্বর যেন কোনোদিন তাকে ততটুকু দুঃখ না দেন, যতটুকু সে অন্যের দুঃখ শুষে নিয়েছে নিজের ভেতর। স্পঞ্জের মতো মানুষ তুমি—সবার জল টেনে নাও, সবার কষ্ট শুষে নাও, কিন্তু তোমাকে কে শুকোয়? তোমার ভেতরে যে-জল জমে আছে, তা কে বের করে দেয়? না কি তুমি ভেজা থাকো, সারাজীবন ভেজা থাকো, আর সেই ভেজাটাকেই শুকনো বলে মেনে নাও?
আমি মনেপ্রাণে চাই, তুমি হাসো—চমৎকারভাবে, অকারণে, হৃদয়ের একদম তলদেশ থেকে—যেমন ভোরের আজান আসে, মোলায়েম হয়ে…চাপ কিংবা প্রত্যাশা ছাড়া, শুধু আসার জন্যই আসে, কেউ শুনুক বা না শুনুক।
দুই।
রোদ—কিংবা ভাষার সীমানায় দাঁড়িয়ে
শুভ সকাল। ভালো আছ?
দুটো শব্দ। 'ভালো আছ?'—পৃথিবীর সবচেয়ে সাধারণ প্রশ্ন, আবার পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর প্রশ্ন—যা নির্ভর করে…কে জিজ্ঞেস করছে, কাকে জিজ্ঞেস করছে, আর জিজ্ঞেস করার সময় তার বুকের ভেতরটা কেমন করছে…এসবের উপর।
এইমাত্র তোমার লেখা পড়লাম। পড়া শেষ হতেই যেন ঘরের জানালা দিয়ে হঠাৎ রোদ এসে পড়ল—সকালের সেই প্রথম রোদ, যেটা চোখে লাগলে চোখ বন্ধ হয় না, বরং আরও মেলতে ইচ্ছে করে। চোখ পুড়লেও ক্ষতি নেই, রোদটুকু দেখতে চাই। কিছু আলো এমনই—সেগুলো চোখে আসে না, সেগুলো সরাসরি বুকে এসে লাগে।
আমি ভেবেছিলাম, তুমি কোনোদিন হয়তো পড়বেই না। সেই না-পড়াটাকে মেনেও নিয়েছিলাম, নিজের ভেতর গুছিয়ে রেখে দিয়েছিলাম—যেমন মানুষ পুরোনো চিঠি ট্রাঙ্কে রাখে, কখনও খুলবে না জেনেও ফেলতে পারে না, কারণ ফেলে দিলে চিঠির সাথে সেই সময়টুকুও মরে যায়, সেই মানুষটাও একটু মরে যায়, সেই অনুভূতিটাও মরে যায়। কিন্তু তুমি পড়েছ—আর এখন যা ভালো লাগছে, সেটা বলে বোঝাতে পারবো না।
ভাষার কিছু সীমানা আছে। সেই সীমানায় গেলে শব্দ থমকে দাঁড়ায়, পেছন ফিরে তাকায়, আর বলে—'এরপর তোমাকে একা যেতে হবে। আমি এতটুকুই পারি।' এই ভালোলাগা সেই সীমানার ওপারে—যেখানে শব্দ পৌঁছোয় না, শুধু নীরবতা পৌঁছোয়, শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস পৌঁছোয়, শুধু একটা হাসি পৌঁছোয়—যেটা দেখলে কেউ বুঝবে না, কেন হাসছি, কিন্তু আমি জানব।
তিন।
ফুচকা—তুচ্ছের মধ্যে বিশাল যা
রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে ফুচকা খাওয়াব তোমাকে।
কী তুচ্ছ একটা প্রতিশ্রুতি, তাই না? ফুচকা—রাস্তার ধারের, বিশ টাকা দামের, টক-ঝাল-মিষ্টি জলে ডোবানো একটা ছোট্ট গোল জিনিস। এতে কী আছে? কিন্তু ভেবে দেখো—পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো তো তুচ্ছ জিনিস দিয়েই তৈরি। কেউ একসাথে চা খেতে খেতে প্রেমে পড়ে, কেউ একসাথে বৃষ্টিতে ভিজে বন্ধু হয়ে যায়, কেউ রাস্তার মোড়ে ফুচকা খেতে খেতে এমন কিছু বলে ফেলে, যা সারাজীবন মনে থাকে। তুচ্ছের মধ্যে বিশাল লুকিয়ে থাকে—যেমন বীজের মধ্যে গাছ লুকিয়ে থাকে।
কবে? কোথায়? শহরের যে-কোনো গলিতে, যে-কোনো বিকেলে। তুমি চাইলে আজকেই।—দেখো, আমি কতটা তৈরি, কতটা অধৈর্য। যেন আমি সারাটা জীবন শুধু এই একটা নিমন্ত্রণ জানানোর অপেক্ষায় বসে ছিলাম—একটা টকমিষ্টি বিকেলের, একটা তুচ্ছ অজুহাতের, একটা ছোট্ট 'হ্যাঁ'-র।
দুপুরের এই নিষ্ঠুর গরমটাকেও আজ আমার ভালো লাগছে।
কী আশ্চর্য! যে-গরমে গতকাল বিরক্ত লাগছিল, সেই গরমে আজ আনন্দ লাগছে। রাস্তার ধুলোও ভালো লাগছে, গায়ে লেগে-থাকা ঘামটাও ভালো লাগছে, রিকশার ঘণ্টাও ভালো লাগছে, এমনকি পাশের বাড়ি থেকে ভেসে-আসা শিশুর কান্নাও ভালো লাগছে—কারণ তা-ও জীবনের শব্দ, আর আজ জীবনটাই ভালো লাগছে। এতটা শান্তি ভেতরে যে, ঘুম চলে আসছে—সেই ঘুম, যা শুধু খুব সুখী মানুষের আসে, দুপুরবেলায়, কোনো কারণ ছাড়াই—যেমন বেড়াল রোদ্দুরে ঘুমোয়—কোনো চিন্তা নেই, কোনো গন্তব্য নেই, শুধু উষ্ণতা আর নিরাপত্তা।
জানো, এই অনুভূতিটাকে আমি চিনি। এটাকে বলে 'গ্রেইস'—অযাচিত আশীর্বাদ। কেউ চায়নি, কিন্তু পেয়ে গেছে। আকাশ থেকে একটা পালক পড়েছে কারও কোলে, আর সে বসে আছে সেই পালকটা নিয়ে, হাসছে।
আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি—জানো—যেন কোনোদিন, কোনোভাবে, তোমার মনকে একটুখানি হালকা করে দিতে পারি।
খুব অসম্ভব চাওয়া হয়তো—ঠিক যেমন একটা জোনাকি ভাবে, সে হয়তো সূর্যের কাজটুকু করতে পারবে। জোনাকি কি সূর্য হতে পারে? পারে না। কিন্তু জোনাকি একটা কাজ করতে পারে, যা সূর্য পারে না—রাতের অন্ধকারে, যখন সূর্য থাকে না, জোনাকি একটু একটু আলো দেয়, আর সেই আলো দেখে পথিক বোঝে—অন্ধকার চিরকালের নয়। আমি সেই জোনাকিটা হতে চাই তোমার রাতে।
জোনাকির পাণ্ডুলিপি: ১
লেখাটি শেয়ার করুন