দর্শন ও মনস্তত্ত্ব

চলো, আগে মানুষ হ‌ই




আমি যাকে চোখ দিয়ে ছুঁই, সে আমায় ছুঁতে চায় হাত দিয়ে। তার এমন ছেলেমানুষি খুব হাসায় আমাকে। কিন্তু যখনই আমি ঠান্ডামাথায় ভাবতে বসি, তখন দেখি, এগুলো তো ছেলেমানুষের কাজ নয়, এসব তো অমানুষের কাজ। এসব নোংরামোকে আমি ছেলেমানুষি বলছি কেবলই ভালোবাসার অজুহাতে?

আর কত নোংরামো আমি ভালোবাসার মোড়কে বেঁধে রাখব? মানুষটা নিজে কি কখনও জানতে পারবে না, সে কত বড়ো অমানুষ?

আমি তো আমার নারীত্বকে ছাড়িয়ে, খোলস ভেঙে প্রবলভাবে মানুষ হবার তাড়নায় ওই লোকটিকে জড়িয়ে ধরতে চেয়েছিলাম। কিন্তু লোকটার মধ্যে তাড়না নেই কোনো, আছে কেবলই কামনা।

এবার তাহলে কী করব? পালিয়ে যাব? কিন্তু আমি তো কারুর থেকে, কোনো কিছুর থেকে পালাইনি কখনও।

জোর করে কলার চেপে প্রেমিককে পুরুষ থেকে মানুষ বানানোর চেষ্টা করব? না, জোর আমি করতে পারব না।

বুঝিয়ে বললে...শুনবে? না কি নিজেই চিৎকার দিয়ে বলবে, "কামনায় জড়িয়ে থাকাই পুরুষের বৈশিষ্ট্য!"?

আমি কি বলতে পারব, "এই পৃথিবীতে অনেক অনেক পুরুষ আছে, অনেক প্রেমিকও আছে; পৃথিবীর কেবলই গুটিকয়েক মানুষের প্রয়োজন।"

আমি কি বলতে পারব না, "চলো, দু-জনে আগে একসাথে মানুষ হই, তারপর একসাথে নারী-পুরুষ, প্রেমিক-প্রেমিকা সবই হওয়া যাবে ধীরে ধীরে..."
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *