গল্প ও গদ্য

ক্ষমা শেখার বয়স



সময় যাবার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ভাবি, আমরা বড়ো হয়ে গেছি।
কিন্তু আসলে কি বড়ো হই আমরা?
না—আমরা শুধু আরও বেশি অনুভব করতে শিখি:
কষ্ট, আনন্দ, হারানো, ক্ষমা।

আমাদের ভেতরে একটা শিশু সবসময় রয়ে যায়—
যে হাসে, কাঁদে, ভালোবাসে, আবার আঘাতও পায়।
আর যারা আমাদের কষ্ট দেয়, তারাও আসলে ভেতরে ভেতরে শিশুই।

দেখবেন, চার-পাঁচ বছরের একটা বাচ্চা যেমন ছয়-সাত মাসের শিশুকে আঘাত করে ফেলে,
তেমনই বড়ো হয়েও মানুষ একে অপরকে আঘাত করে—না বুঝে, না ভেবে।
দু-জনের কারুরই দোষ থাকে না,
তবু কেউ-না-কেউ কষ্ট পায়।

আপনি একবার লিখেছিলেন—
"বাঁচতে যাদের কষ্ট হয় না, তারা কেমন করে বুঝবে?"
আপনি তো বোঝেন।
আপনি সেই ছয়-সাত মাসের শিশুটি,
আর যারা আপনাকে আঘাত দিয়েছে, তারা হয়তো সেই চার-পাঁচ বছরের শিশুর মতোই।

জীবন মানে হয়তো এই বয়স আর আঘাতের অদলবদল।
একসময় আমরা আঘাত দিই,
একসময় আমরা তা সহ্য করি।
শেষমেশ জীবন শেখায়—'ক্ষমা'। সেটা করা বা চাওয়া, দুটোই।

একসময় আমরা ছোটো ছিলাম। ছোটো ভুল করতাম। বড়োরা তখন আমাদের ছোটো ভুল ক্ষমা করতেন। এখন আমাদের তাদের বড়ো ভুল ক্ষমা করতে হয়। করতে হয় না?
আর, শিশুদের তো ক্ষমা করতেই হয়।
ওরা তো বোঝে না।

আর সেইটুকু বিষয় জীবনে কেমন করে রাখতে হয়, তা তো লিখেছিলেন কিছুদিন আগে—
"এ হলো—
রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে
ছুরিটা আঁকড়ে ধরা...
যতক্ষণ না ক্রোধ নিঃশ্বাসে মিশে শান্ত হয়।
এ সবই সাধারণ ঘটনা—
কিন্তু অসাধারণ সাহস দাবি করে।"

আপনি যেন সেই সাহসের মানুষ হয়ে থাকেন সবসময়,
লেখার মধ্যে, নীরবতার মধ্যে, নিজের মধ্যেও।

আপনার জন্মদিনে স্রষ্টার কাছে আপনার জন্য কী চাইতে পারি?
স্রষ্টার কাছে চাইলাম,
জীবনের সব ক্লান্তির পরও যেন
লেখার মতো শান্তি আপনার কাছে থেকে যায়।

আমি চাই, আপনার বাঁচার পথ সহজ হোক।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *