এক
রাত তিনটে বেজে সাত মিনিট। ঘড়িতে না—ফোনের স্ক্রিনে। শুভ্রর ঘড়ি নেই।
এক-শো দুই দশমিক কিছু-একটা। থার্মোমিটারের পারদটা একটা সরু লাল সুতোর মতো উঠে গেছে কাচের নলে। শরীরটাকে নিজের মনে হচ্ছে না—মনে হচ্ছে অন্য কারও শরীর ধার করা—ভেতর থেকে পুড়ছে, আর শুভ্র সেই পোড়ার সাক্ষী। কান পাতলে শোনা যায় নিজের নাড়ির শব্দ, ধুকপুক ধুকপুক, যেন কেউ ভেতর থেকে দরজায় মুষ্টি মারছে।
উঠতে হবে। জল আনতে হবে।
মেসের করিডোর রাত তিনটেয় অন্যরকম। দিনের ছেলেদের হাসি, তর্ক, হিন্দি গান—সব নিভে গেছে। শুধু একটা টিউবলাইটের মৃতপ্রায় গুঞ্জন আর শুভ্রর পায়ের চটির চটচট। দেয়ালে কারও সেঁটে-দেওয়া পরীক্ষার রুটিন—কোণাটা খুলে কুঁকড়ে গেছে, তারিখ পেরিয়ে গেছে অনেক দিন। বাথরুমের কলটা খুললে প্রথমে মরচে-রঙা জল আসে। তারপর ধীরে ধীরে পরিষ্কার। বালতি ভরে। ভারী। হাত কাঁপছে। দেয়াল ধরে ধরে রুমে ফেরে।
তারপর মেঝেতে বসে নিজের মাথায় নিজে জল ঢালে।
প্রথম মগটা কাঁধে পড়লে শিরদাঁড়া বেয়ে একটা শিরশিরানি নামে। দ্বিতীয়টা মাথায়। ভেজা চুল কপালে এসে লেপটে ধরে। তৃতীয়টায় চোখ বুজে আসে।
আর তখনই আসে মা।
জ্বর হলে মা কপালে ভেজা গামছা রাখত। সেই গামছার ভাঁজে কী ছিল কে জানে—ছুঁলেই জ্বর পালাত। মায়ের আঙুল ছিল রুক্ষ, রান্নাঘরের আঁচে পোড়া, কিন্তু সেই রুক্ষতার মধ্যেই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে নরম কিছু। মুখের কাছে মুখ এনে বলত—ঘুমা, বাবা, আমি আছি।
সেই স্পর্শটা দিনে দিনে ফিকে হয়ে আসছে। বৃষ্টিতে ভেজা চিঠির কালির মতো—অক্ষরগুলো আছে, কিন্তু পড়া যায় না আর।
চতুর্থ মগ। পঞ্চম। ষষ্ঠ…
জ্বর কমে না। শুভ্র ঢালতেই থাকে। আর কীই-বা করবে। এই ঘরে এমন কেউ নেই যে, উঠে এসে বলবে—থাক, শুয়ে পড়। আমি দিচ্ছি।
দুই
কুষ্টিয়ায় তাদের বাড়িটা ছিল একটা পুকুরের ধারে।
বাড়ি বলতে তিনটে ঘর, টিনের চাল। বৃষ্টি পড়লে সেই চালে এমন একটা শব্দ হতো যেন হাজারটা আঙুল একসাথে টোকা দিচ্ছে—ছোটোবেলায় শুভ্রর খুব ভালো লাগতো সেই শব্দ। উঠোনে তুলসী গাছ, মা সন্ধেবেলায় গোড়ায় প্রদীপ দিত। সেই প্রদীপের শিখা বাতাসে কাঁপত, আর মায়ের মুখে আলো-ছায়ার খেলা হতো—চেনা মুখটা তখন একটু অচেনা লাগত, একটু দেবীর মতো। পেছনে একটা আমগাছ—প্রকাণ্ড, পুরোনো, বাকলে পিঁপড়ের নিজস্ব মানচিত্র আঁকা। একটা ডালে বাবা দড়ি বেঁধে দোলনা বানিয়ে দিয়েছিল।
শুভ্রর সবচেয়ে পরিষ্কার স্মৃতি—সেই দোলনায় বসে পুকুরের দিকে চেয়ে থাকা। বিকেলবেলা, সূর্য নামছে, আকাশটা পুড়ে কমলা, সেই কমলা পুকুরের জলে উলটো হয়ে ভাসছে। দুটো আকাশের মাঝখানে শুভ্র দুলছে। মা পাশে বসে মুড়ি ভাজছে। ভাজা মুড়ির গন্ধে সন্ধেটা একটা আলাদা রং পেত—সোনালি, ধোঁয়াটে। সেই রঙের নাম কোনো ভাষায় নেই বোধ হয়—শুধু মুড়ি ভাজলে আসে।
বাবা ফিরত সন্ধেবেলায়। গেইটে সাইকেলের ঘণ্টা—টুংটাং, টুংটাং। সেই শব্দটা শুনলে বুকের ভেতর একটা পাখি ছটফট করত। শুভ্র দৌড়ে যেত, বাবা তুলে নিত। ঘামে-ভেজা শার্ট, সারাদিনের ক্লান্তি গায়ে মাখা—কিন্তু শুভ্রকে কোলে নিতে কোনোদিন দেরি করেনি। পকেট থেকে কখনো পেয়ারা, কখনো লজেন্স—রাজার জন্যে।
বাবার সেই রাজা এখন কলকাতার একটা মেসে, ওষুধের স্ট্রিপ আর পুরোনো বইয়ের মধ্যে।
বারো বছর বয়সে মামা এসে মাকে বলেছিল—ছেলেটাকে দে। এদিকে পড়াশোনা করুক, মানুষ হোক। মা অনেকক্ষণ চুপ করে ছিল। সেই চুপটা ঘরের মধ্যে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল যে, দেয়ালঘড়ির টিকটিক পর্যন্ত জোরে শোনা যাচ্ছিল। বাবা উঠোনে দাঁড়িয়ে ছিল, পিঠ দরজার দিকে—ভেতরে ঢুকতে পারছিল না, বাইরেও যেতে পারছিল না।
মা মাথায় হাত রেখে বলেছিল—যা, বাবা। লেখাপড়া করে বড়ো হ।
কেঁদেছিল কি না শুভ্র দেখেনি। মা মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু হাতটা মাথা থেকে সরাতে কেমন একটু দেরি করেছিল—সেই দেরিটুকুতে সব ছিল।
নদী পার হওয়ার সময় নৌকায় বসে পেছনে তাকিয়ে ছিল। ঘাটটা ছোটো হতে হতে একটা সরু রেখা হলো, তারপর সেই রেখাটাও জলে মিশে গেল। নৌকার তলায় জল ছলকাচ্ছিল, মাঝি বিড়ি টানছিল, বাতাসে পাটক্ষেতের একটা ভেজা-মিষ্টি গন্ধ। শুভ্র পেছনেই তাকিয়ে ছিল—যেন যতক্ষণ তাকিয়ে থাকবে, ততক্ষণ ঘাটটা আছে।
শুধু একটা ঘাট মিলিয়ে যায়নি সেদিন। একটা শৈশব গেছে, একটা দোলনা গেছে। সেই টুংটাং শব্দটা গেছে—যা আর কোনোদিন ফিরবে না।
তিন
মামার বাড়ি, বেহালা। ছোটো ফ্ল্যাট। দুটো ঘর, রান্নাঘর, বারান্দা।
শুভ্রর জায়গা ছিল বারান্দায়। একটা পাতলা তোশক, একটা বালিশ, যেটার তুলো একদিকে সরে গেছে—মাথা রাখলে অর্ধেক নরম, অর্ধেক শক্ত। ঘুমের মধ্যে অভ্যেস হয়ে গিয়েছিল নরম দিকটায় থাকার।
গরমে মশা। শীতে হাড়-কাঁপানো ঠান্ডা—কলকাতার শীত বাইরে থেকে আসে না, মেঝে ফুঁড়ে ওঠে, দেয়াল থেকে ঝরে। বর্ষায় একটা কোণা দিয়ে জল ঢুকত। শুভ্র শুয়ে শুয়ে দেখত, ফোঁটায় ফোঁটায় জল পড়ছে মেঝেতে, প্রতিটা ফোঁটা একটা ছোট্ট বৃত্ত তৈরি করে মিলিয়ে-ছড়িয়ে যাচ্ছে।
সবার থালাবাসন ধুতে হতো। প্রতিদিন। কলের তলায় বসে, ছাই দিয়ে ঘষে ঘষে। অন্যের খাওয়ার চিহ্ন মুছে দিত—ভাতের দানা, ডালের দাগ, মাছের কাঁটা। মামির মেয়ে তখন টিভি দেখত—কার্টুন, হাসির শব্দ ভেসে আসত রান্নাঘর পর্যন্ত। দুটো শৈশব একই ছাদের তলায়, কিন্তু একটায় কার্টুন আর অন্যটায় ছাই-মাখা হাত।
একদিন মামির গলা পেল পাশের ঘর থেকে। ফোনে কাউকে বলছে—ওই ছেলেটার ভার আর কদ্দিন?
একটা বাড়তি থালা। সেটা শুভ্র।
সেদিন থেকে আরও বেশি কাজ করত—মুছত, কাচত, বাজার করত। ভারী ব্যাগ নিয়ে সিঁড়ি ভাঙত, হাতে দড়ির দাগ পড়ত—কিন্তু সেই দাগের দিকে তাকিয়ে একটা বিচিত্র তৃপ্তি হতো। যেন নিজের থাকাটুকুর দাম মেটাচ্ছে সে।
রাতে বারান্দায় শুয়ে ছাদের দিকে তাকাত। একটা গিরগিটি থাকত সেখানে—সবুজাভ, স্থির, অপলক। কখনো পাখা মেলে দৌড়াত, কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা নড়ত না। শুভ্র ভাবত, ওটাও বোধ হয় আমার মতো। অন্যের দেয়ালে থাকে। তাড়ালে পালাবে। না তাড়ালে চুপচাপ নিজেকে দেয়ালের রঙে মিশিয়ে থাকবে।
মামার ফোনে মাঝে মাঝে মায়ের সাথে কথা হতো। দু-তিন মিনিট। মামা ঘড়ি দেখত।
খাচ্ছিস তো, বাবা?
হ্যাঁ, মা।
ঘুম হচ্ছে?
হ্যাঁ, মা।
দু-তিন মিনিটে কতটুকু বলা যায়। বারান্দায় ঠান্ডায় কাঁপি, মামি বোঝা বলে, রাতে তোমার কথা ভেবে বালিশের নরম দিকটা ভেজাই—এসব বলা যায়? মা শুনলে কষ্ট পাবে। আর মাকে কষ্ট দেওয়ার অধিকার শুভ্রর নেই। তাই চুপ থাকত। চুপ থাকাটাই ছিল শুভ্রর ভালোবাসা।
চার
ফেব্রুয়ারি মাসের এক সন্ধে। বাতাসে একটা ভেজা গন্ধ, কিন্তু বৃষ্টি আসেনি।
কলেজ থেকে ফিরে দেখে, মামা বিছানায়। মুখ চুনের মতো সাদা। পেট খারাপ। দিদারও। শুভ্রও সকাল থেকে একটু অস্বস্তিতে ছিল, কিন্তু নিজের দিকে নজর দেওয়ার অভ্যেসটা হারিয়েছে অনেক আগে। নিজের ব্যথাকে ব্যথা বলে চেনাটাই ভুলে গেছে।
রাতটা হলো দুঃস্বপ্নের চেয়েও খারাপ—কারণ দুঃস্বপ্ন থেকে জেগে উঠলে দেখা যায়, সব মিথ্যে। এই রাত থেকে জেগে উঠলে দেখা গেল, সব সত্যি।
মামাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো। দিদাকেও। পাশের বাড়ির মানুষ এল, অটো ডাকা হলো। শুভ্রকে কেউ জিজ্ঞেস করেনি—তুই কেমন আছিস। সে তো দাঁড়িয়ে ছিল, কথা বলছিল, অটোর দরজা খুলে দিচ্ছিল। দাঁড়িয়ে-থাকা মানুষকে সুস্থ মনে করাটা পৃথিবীর এক প্রাচীন ভুল।
রাত বারোটায় বাথরুমের মেঝেতে পড়ে গেল। বমি আর ডায়রিয়া একসাথে। শরীর থেকে যেন জীবনটাই বেরিয়ে যাচ্ছে তরল হয়ে। সকালে পাশের বাড়ির কাকিমা দরজা ভেঙে দেখল—শুভ্র সাদা টাইলসের ওপর কুঁকড়ে আছে। ভ্রূণের মতো। যেন জন্মের আগের ভঙ্গিতে ফিরে গেছে—যেখানে কিছু জানতে হয় না, কিছু সইতে হয় না।
হাসপাতালে জ্ঞান ফিরল দু-দিন পর।
প্রথমে সাদা সিলিং। তারপর স্যালাইনের বোতল—স্বচ্ছ তরল ফোঁটায় ফোঁটায় নামছে শিরায়। কোথাও একটা শিশু কাঁদছে, একই সুরে, থামছে না। সেই কান্নার ভেতরে একটা জেদ আছে—যেন জানে, কেউ আসবে।
মাথা ঘুরিয়ে পাশ ফিরল।
ডানদিকের বেডে একজন বুড়ো মানুষ। তার মেয়েটি কমলালেবুর খোসা ছাড়াচ্ছে—একটা-একটা কোয়া আলাদা করে, সাদা আঁশটুকু যত্ন করে তুলে, বাবার ঠোঁটের কাছে ধরছে। মানুষটা মেয়ের দিকে তাকিয়ে হাসছে। সেই হাসিতে কোনো ভয় নেই—কারণ পাশের চেয়ারটা খালি নয়।
বাঁ-পাশে আরেকজন। বউ চুপচাপ পা টিপে দিচ্ছে। কোনো কথা নেই। লাগেও না।
সামনের বেডে একটা বাচ্চা, হাতে প্লাস্টার। মা কোলে নিয়ে ছড়া বলছে। বাচ্চাটা প্লাস্টার-বাঁধা হাত নিয়েই হাসছে।
শুভ্র নিজের বেডের দিকে তাকাল।
পাশে কোনো চেয়ার টানা নেই। কোনো টিফিন ক্যারিয়ার নেই। কোনো মুখ নেই। পুরো ওয়ার্ডে ত্রিশটা বেড, প্রত্যেকটার পাশে কেউ-না-কেউ। শুধু একটা বেডের পাশে শুধুই স্যালাইনের স্ট্যান্ড। লোহার, নিঃশব্দ—ওটার কোনো হাত নেই যে ধরবে।
কাঁদতে চেয়েছিল। কান্না এল না। জলশূন্য শরীরে চোখেও জল জোগাড় হয় না। দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে শুয়ে রইল। সবুজাভ দেয়াল—বারান্দার গিরগিটিটার রং।
পরদিন নার্স এসে বলল—তোমার মামা আর নেই।
শুভ্র বলল, শুনেছি। রাতে পাশের বেডের লোকটা ফোনে কথা বলছিল—সেই কথার ফাঁকেই শুনেছে। অন্যের কথার ফাঁকে নিজের খবর পাওয়া—এটাও একটা অভ্যেস।
দু-দিন পর দিদাও গেল। এবার নার্স কিছু বলল না। শুধু স্যালাইন বদলে দিয়ে গেল। একটু থেমে শুভ্রর কপালে হাত রেখেছিল—মুহূর্তের জন্যে। সেই মুহূর্তটুকু শুভ্র মনে রেখেছে।
পাঁচ
মামাবাড়িতে ফিরে শুভ্র আবিষ্কার করল—নীরবতার একটা ওজন আছে।
তিনজনের বাড়িতে একজন থাকলে ফাঁকা জায়গাটুকু শুধু ফাঁকা থাকে না। সেটা ফুলে ওঠে, ঘরের কোণায় কোণায় ভরে যায়, বুকের ওপর চেপে বসে। জুতো খোলার শব্দটা প্রতিধ্বনিত হতো—আগে হতো না, কারণ আগে দিদা রান্নাঘর থেকে বলত, এসেছিস? এখন সেই শব্দটা দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে, উত্তরহীন।
রান্নাঘরে দিদার শেষ রান্নার দাগ—চুলোর পাশে ডালের একটা শুকনো ছিটে। মুছে ফেলতে পারেনি অনেক দিন। ওটা মুছে দিলে দিদার শেষ কাজটাও মুছে যাবে—এই ভয়ে রেখে দিয়েছিল।
সিঙ্কে মামার শেষবারের গ্লাস। জল শুকিয়ে গেছে, তলায় একটা সাদাটে দাগ রয়ে গেছে।
মামার ঘরে ঢুকলে গন্ধ পেত—সিগারেট, ঘাম, সরষের তেল। মামা ঘুমানোর আগে মাথায় তেল মাখত, সস্তা হলুদ তেল, প্লাস্টিকের বোতলে। বোতলটা এখনও টেবিলে, অর্ধেক খালি। একদিন ঢাকনা খুলে নাকের কাছে ধরল—মুহূর্তের জন্যে মনে হলো, মামা ঘরেই আছে, শুধু দেখা যাচ্ছে না।
দিদার আলনায় তাঁতের শাড়ি—সাদার ওপর লাল পাড়, জায়গায় জায়গায় সুতো ওঠা। সজোরে মুখে চেপে ধরল। ন্যাপথলিনের ভেতর থেকে একটু চন্দনের গন্ধ পেল। অস্পষ্ট, প্রায়-নেই, কিন্তু আছে।
দু-সপ্তাহ পর আবার খুলল। শুধু ন্যাপথলিন। চন্দন মিলিয়ে গেছে। দিদা গেছে আগেই; এবার গন্ধটাও গেল। মানুষ একবারে যায় না—বারে বারে যায়। প্রথমে শরীর, তারপর গন্ধ, তারপর গলার স্বর মনে থাকে না, একসময় মুখটাও ঝাপসা হয়ে আসে।
রান্না শুরু হলো। ভাত, ডাল, আলুভাজা। প্রতিদিন একই—শরীরটাকে চালু রাখা, যতটুকু দরকার, ততটুকু। কাটতে গিয়ে আঙুল কাটলে কলের জলে ধুয়ে কাপড় জড়িয়ে আবার কাটত চুপচাপ। কে শুনবে?
একদিন ডাল পুড়ে গেল। পোড়া গন্ধে ঘর ভরে গেল। হাঁড়িটা সিঙ্কে রেখে মেঝেতে বসে পড়ল। পিঠ দেয়ালে। হাঁটু বুকে। মাথা হাঁটুতে।
কাঁদেনি। চোখে জল আসে না আজকাল।
ডাক্তার বলল, আলসার। ঠিকমতো খেতে হবে, চিন্তা করা যাবে না। চিন্তা করা যাবে না—শুনে ঠোঁটের এককোণা সামান্য কুঁচকে গেল। যাকে বলে হাসি—তা নয়। তার ছায়া।
মেসে চলে এল।
একটা বাড়তি থালা: ১
লেখাটি শেয়ার করুন