Bengali Poetry (Translated)

আশ্রয় ছেড়ে দেবার পর

আমি তোমাকে যেতে দিচ্ছি। যাও, এবার সত্যি সত্যিই চলে যাও। আর আটকে রাখব না। অনেক অনেক দিন কেটে গেল। তোমাকে আশ্রয় দিয়েছি, একইসঙ্গে তা নিয়েছিও।




আমি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য ভালোবাসিনি। এসব "লং-লাস্টিং", "বহু বছর টেকালাম", "তবুও তো ওকে যেতে দিইনি" টাইপের 'গর্ব করা' আমাকে দিয়ে হবে না। ভালোবাসা তো আর হকিংসের প্রেসার কুকার কিংবা বাটা'র স্যান্ডেল না যে এখানে "লং-লাস্টিং" কথাটা ব্যবহার করা যায়, তাই না?




যা-ই হোক, তুমি ভালো থেকো। আমি মন থেকে চাই, তোমাকে যেন কখনোই, কোনও অবস্থাতেই আমার দ্বারস্থ হতে না হয়। তুমি তোমার মতন করে জীবনটাকে উপভোগ করবে, খুব করে বাঁচবে, হইচই করে বাড়ি মাথায় তুলবে; প্রাণ খুলে হাসবে, মন খুলে কাঁদবে।




আমি এদিকে মন ভরে দেখব। তুমি ফেইসবুকে ছবি দিয়ো, কেমন? আমি দেখব?
ইস্, কতদিন...কতদিন তোমায় দেখি না...প্রায়...




আচ্ছা, থাক। দেখে কী আর করব এখন? আমি বুঝতে পেরেছি, ফুল তো দূর থেকেই সুন্দর!
তবে কথা সেটা না। আমার কথাটা হচ্ছে, ইদানীং আমি আর অভিমান করতে পারি না, হাসতে কিংবা কাঁদতে কিছুই পারি না। কোন‌ও ঘটনা সুখের হোক কিংবা দুঃখের, কিছুই আমাকে ছুঁতে পারে না, বিশ্বাস করো!




আমি কাঁদতে পারি না আর, এই যন্ত্রণায় বুক ভারী হয়ে রয়েছে।
আগে তোমাকে ফেরাতে চাইতাম, এখন যেতে দিতে চাইছি। আমি কাউকে কোন‌ও দোষ দিতে চাই না, দিলেও তা নিজেকে দেবো।




গভীর অনুভূতিশীল কোনও মানুষ অনুভূতিহীন হয়ে গেলে কেমন দেখায় জানো? দেখতে চেয়ো না, ভয়ে কাঁপবে, আর কাঁপতেই থাকবে।
ভালোই হয়েছে, তুমি শেষদেখাটা করলে না!
একজন মানুষকে বেঁচে-থাকা অবস্থায় দেখলে যেমন লাগত,
তার জীবন্ত লাশ নিশ্চয়ই দেখতে তেমন হবে না!
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *