গল্প ও গদ্য

অপ্রেরিত



এক। আমি তোমায় খুউব চিনেছি—কোন কথাটায় তুমি অস্থির হয়ে পড়বে, এ-ও আমার জানা। আমি সূক্ষ্মভাবে মনোযোগ রাখি, তোমার উদ্বেগ সম্পর্কে। তোমার মতন করে কেউ আমাকে স্পর্শ করার সুযোগ পায়নি, আমার শরীরের প্রত্যেকটি ক্ষতের সাথে তোমার সখ্যই আমার দুর্বলতার একমাত্র কারণ।

দুই। স্বচ্ছতা?
যেটা যেমন, ঠিক তেমনভাবেই দেখা।

তিন। তুই আমাকে ভালো না বাসলেও আমার অনুভূতিকে সত্যিই ভালোবাসিস, বোঝা যায়। আমি তোকে ঠিক যতখানি ভাবি, তুই তো তার থেকেও বেশি সময় আমার ভেতরেই ডুবে থাকিস। এটা কিন্তু আরও ভয়ংকর আসক্তি।

পড়তেও যথেষ্ট সময় লাগে। কারণ, আমি এ-ও জানি..তুই সব লেখা পড়িস না, সব গান শুনিস না। এজন্য এতটা সাহস পাই, তোকে লেখার। আই নো, ইউ লাভ মি…একটু একটু…না না, অনেকটাই।

চার। আর যদি না রাখিস, তাহলে অন্য কোথাও,
অন্য কোনো সুরে তোর কাছে আসব।

আমি আছি রে, পাগল! মরে-টরে যেতে অনেক সাহস লাগে, অত সাহস পাই না। বেঁচে থাকতে আসলে নিজের প্রতি কিছুটা আত্মবিশ্বাস থাকলেই চলে। তবে, সাহস করতে পারলে তোকে জানাব, আমার আর এই পৃথিবীর কাউকে জানানোর নেই।

তোকে আমি মনে মনে ভীষণ খুঁজছি...
একবার স্থির হয়ে বসবি?

ছয়। এই সেলফোনটা আমার কখনোই খুব প্রিয় ছিল না, তবে এখন এটা বিক্রি করে দিতে ভীষণ কষ্ট লাগছে। তোমার টেক্সটগুলো আমার প্রায় সবই মুখস্থ, হঠাৎ পুরোনো কোনো কথা মনে পড়লেই—আমি সার্চ করে দেখি..তোমার লেখা যে-কোনো কথা।

তোমাকে অনুভব করতেই চোখদুটো ছলছল করে উঠল! আচ্ছা, এসব বলার কি দরকার আছে? তোমাকে কখনো কাছে পেতে ইচ্ছে হলে—আমি তোমায় ভেবে কত কিছু লিখে ফেলি, ওসবও তো বলতে চাইনি কখনও।

তোমাকে নিয়ে কিছু লিখলেই তুমি বলো—ভীষণ সুন্দর হয়েছে। অথচ তুমি কখনও বুঝলেই না—আমি শুধু তোমার সাথে যোগাযোগটা ধরে রাখবার জন্যই লিখতে শিখেছিলাম।

সাত। আমি যখন থেকে বুঝতে পারি...আমি তোকে ভালোবাসি—সেই মুহূর্ত থেকে তোর একটা ছবি আমার মনের ভেতর আঁকা হয়ে গেছে, সর্বক্ষণই সেই আবছা ছবিটা আমার চোখের সামনে স্পষ্ট হতে থাকে—আমি খুব গভীরভাবে স্পর্শ করি তোকে। তুই আমার কল্পনাতে ভীষণ সুন্দর!

আট। দিনের একটা সময় লেখালেখি করতে না পারলে, আমি ভীষণ অস্থির হয়ে পড়ি। তোকে অনুভব করতে না পারলে, আমি ভারি অসুস্থ হয়ে পড়ি। মনটাকে কিছুতেই শান্ত রাখতে পারি না।

নয়। তোমাকে দেখতে পেলেই মনটা শান্ত হয়ে যেত। তোমাকে বুকে নিয়ে জড়িয়ে ধরলেই আমার কান্না থেমে যেত, একেবারে। ভাবছি, তোমাকে কীভাবে আরও একটু কাছে পাওয়া যায়।

আমি এতটা অক্ষম কেন? অসহ্য লাগে আমার নিজেকে।

দশ। ভীষণ অস্থির লাগছিল! তোকে ভুলে থাকতে চেষ্টা করলেই আমার ভেতরটা একদম দুমড়ে-মুচড়ে শেষ হয়ে যায়...তোকে ভুলে যাওয়া মানে লেখালেখি থেকে দূরে থাকা, একদম দূরে।

কোনো লেখাই আমি লিখতে পারি না তোকে আমার বুকের ক্ষতটায় আশ্রয় না দিলে। আমি এমন কেউ নই, যাকে কেউ মনে রাখতে চায়, তাকে তুই কী করেই-বা মনের কোণে জায়গা দিবি? আমিই-বা তোকে কেন চাইছি এত? বিশ্বাস কর, আমি তোকে একমুহূর্তের জন্যও ভুলে থাকতে পারিনি।

এগারো। আমি তোর জন্য এই একজীবন অপেক্ষা করে কাটিয়ে দেবো, তা-ও ভালো...তবুও, অন্য কাউকে আমার মনের ভেতরটায় জায়গা দিতে পারব না। অন্য কেউ আমাকে ছুঁয়ে দেখবে কীভাবে? এটা সম্ভব হবে না।

তুই আমাকে যতখানি আশ্রয় দিয়েছিলি তোর বুকে…সেই সময়টাতে বড়ো নিশ্চিন্তে ছিলাম। আমার মনে হয় না, এ জীবনে আমার আর কাউকে দরকার আছে।

তোর শরীরের ঘ্রাণ আমার বড়ো আপন লাগে। যদি এমন হয়, তোর সাথে আর কখনও কথা বলার সুযোগটা হচ্ছে না—তবুও আমি তোর অনুভব ছাড়তে রাজি নই।

তোকে আমি ভীষণ ভালোবাসি...ভীষণ! এতটাই বেশি যে—আমি জানি না, আমার কী করা উচিত। আমি বুঝি না, আমার কোথায় থামা উচিত।

বারো। একটা বার তোর কাছে আসতে দে আমায়...আমি জানি, আমার সাথে থাকা যায় না, আমি ভীষণ বিরক্তিকর। তবুও, একটু কষ্ট করে এবার আমাকে সহ্য করে নে একবার। আর কখনও অনুরোধ করব না। কথা দিলাম।

তেরো। কী করছ তুমি? ঘুমিয়ে পড়েছ? কেন আজ তুমি এত ব্যস্ত? আমি মাঝে মাঝে ভাবি, তুমি আমার খুউব কাছে শুয়ে আছ, যতখানি কাছে এলে ভালো না বেসে থাকা যায় না। কখনো যদি জানতে—তোমাকে ভালোবেসে আমি কতখানি ভয়ংকরভাবে সুখী, তবে কষ্ট দিতে না।

আমি কেন দূরে পালাতে চাই, জানো?

চৌদ্দ। তুই কখনও আমাকে ভালোবাসতে যাস না...

এভাবে আরও কিছুক্ষণ যেতে দিই, এটাই আমার জন্যই বেশি। তুই সত্যি সত্যিই আমাকে কখনও ভালোবেসে ফেললে, সেই সুখের পরিধি আমি সহ্য করতে পারব না। সব কিছু একদম থেমে যাবে।

পনেরো। যে-পথের আশায় আমি দিক হারিয়েছি…
কিছুদূর গিয়ে জানা হলো—
সে পথ আমার জন্য নয়।

এক মায়াময় সংঘাত পেরিয়ে অস্তিত্বের খোঁজে...
পিপাসুদের প্রথম পরাজয়।

ষোলো। সংকটে বিচলিত হয়ো না—
আমি সাথে আছি।

কী তোমার পরিচয়?
কেই-বা এই শক্তির উৎস?
এ কি শুধুই আমার ভ্রম?

এর নেপথ্যে তোমারই নীরবতা,
হয় যেখানে আত্ম-অহংকার বিসর্জন।

নিগূঢ় উপাসনায় চৈতন্যের সংবর্ধনা,
আত্মস্বরূপ বিশ্লেষণ নিশ্চয়ই প্রয়োজন।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *