Bengali Poetry (Translated)

অন্য আলোয় আয়নাযাপন

 কিছু না চেয়ে, কিছু না পেয়ে, সম্পর্কটা ভালই বাঁচে,
স্বার্থ কিবা প্রাপ্তি ভুলে মানুষ দুটি দারুণ থাকে!
এমন করে ভাবি না যতই, স্বচ্ছ কি তা জলের মতই?
প্রত্যাশা নেই, কষ্ট আছে,
ভণিতা ছাড়াই বেদনা আছে,
দূরে থেকেও ঘেঁষে কাছে,
সম্পর্ক এমন...অনেকই তো আছে!
 
আর কিছু নয়, কেমন আছো, জানতে দিয়ো।
কোথায় আছো, খবর দিয়ো।
আমি নাহয় দূরেই রবো,
একটু হলেও চিঠি দিয়ো।
এসো না কাছে, দূরেই থেকো,
তোমার কথা ভাবতে দিয়ো।
 
তোমার স্মৃতি ভীষণ কাঁদায়,
কথা জমে যায়, ধুলো ঝরে হায়...
জমে বিস্মৃতি নিভৃত খাতায়।
কতদিন গেল, ঘুরল বছর...একএক করে,
তবু কেন আজও মনে পড়ে যায়!
 
সত্যি বলতো, কে এসেছে প্রথম কাছে--সে, না আমি?
সে তোমাকে ভালোবাসে, জানি! বেশিই বাসে, তাও জানি!
দ্বিধা তবুও...আমার চেয়েও?
তোমার উপর ওর অধিকার ষোলআনাই--মানছি, মশাই!
পুরনো যে দাবি, আছে এখনও, ছাড়ব না তা, জেনে রেখো!
যে অধিকার কিংবা দাবি তোমার উপর, তার কোনও যে দেশ হয় না, কাল হয় না....
অনেক দামি, তবু কোনও তার মানে হয় না!
 
বাইরে দেখি, দুপুররোদের অলস আলো আলতো হাসে,
খাটে ছড়ানো স্বরবিতান আজও খুব হিসেবে সময় মাপে,
মন ভেবে যায়, তোমার সাথে ঘর বাঁধলে...সুখ পালাত?
আবার ভাবি, নেই তবু তো রয়েই গেছি...খারাপ নাতো!
চোখ বুজলেই ছুঁই তোমাকে,
আঙুল-ফাঁকে অন্যহাতে হাঁটছি যখন,
অনুভবে আজও তুমিই থাকো!
 
এ হৃদয়ে তোমার মুখের দৃষ্টিতে, কান্না আসে বৃষ্টিতে,
তাকিয়ে থাকি কী আনমনে... হঠাৎ তখনই, আবছা তুমি স্মরণে লুকাও,
নিবিড় ব্যথা ক্ষণিকে হারায়!
মনের সাথেই মন বকে যায়, কত গল্প...কথার বুনট,
কত উত্তর মাথায় কাঁদে--প্রশ্ন তো নেই...যন্ত্রণা খুব!
দুহাত বাড়াই অনর্থকই...আত্মা কাঁদে, তোমায় খোঁজে,
খুঁজি নাকো যা, তা এসে যায় কত সহজে,
তুমি আসো না!
 
যখন ওকে আদর করি বাধ্য হয়েই,
রান্নাশেষে খাবার খাওয়াই,
কেবলই তোমায় মনে পড়ে যায়।
প্রতিটি ক্ষণেই তোমায় ভাবি....পাই না কাছে!
মন ছুটে যায়, পা ছোটে না--শেকল ভারি!
কান্না গিলে হাসতে থাকি.....ভার বেড়ে যায়, কেবলই আমার ভার বেড়ে যায়!
 
হাতের বদল--কঠিন বিচার,
একটা ঘরে স্বপ্ন দেখে অন্য ঘরে জীবন গড়া--স্রেফ বাঁচার দায়ে বাঁচতে শেখা!
সংসার কেবল সঙের খেলা, তবু সং-ঘরেতেই জীবন কাটে মরণফাঁদে!
পূর্ণতা নেই, সঙ্গ আছে--এমন সঙ্গ কাঁদায় ভীষণ!
আনন্দতে ভাসায় না যা, নিঃসঙ্গতা তারচে’ দারুণ!
 
তাকে যখনই দিই ভরিয়ে প্রেমআদরে, মন দিই না,
‘আপনি’ করেই ডাকি ওকে, ‘তুমি’ ডাকি না, মুখে আসে না হাজারবারেও,
ভালোবাসি যাকে, ‘তুমি’ করে ডাকি,
মনের বিরোধে যার সাথে বাঁচি, আপনি’তে থাকি!
আমারও একটা ‘তুমি’ ছিল, এখন কেবলই ‘আপনি’ আছে....মিস্‌ করি খুব ওই ‘তুমি’টাকে।
 
এই ভাল্লুক! খুব ভাল থেকো!
মিশে আছ তুমি, থাকবে এমনই...হৃদয় জুড়ে--প্রার্থনাতে, শুভ কামনায়...সারাজীবনই!
সমস্ত এই ‘আমি’ ঘিরে তোমারই ছায়া, ধূসর দিনের কান্নাগুলি, রাতের মিছিল,
সবার ভিড়েও একাকি কাঁদি, আকাশ দেখারও পাই না সময়!
কালকে রাতে চাঁদ ছিল না, ছড়িয়ে আকাশ তারা ছিল শুধু,
ছাদে উঠে খুব জড়িয়ে ধরে বলল কানে মধুর স্বরে,
“প্রিয় হে, শোনো, দিতে পারি কিছু, না-ই বা পারি,
একটুখানি আবদারই তো...দিলাম রেখেই!”
জানে নাতো সে, আমার আকাশের ক্যানভাস জুড়ে দুচোখ তোমার কতটা মিশে!
তুমিই আমার আকাশ ওগো, ওই আকাশে তো আর কেউ আসে না ভুলে কখনও!
 
এ বাঁচা কেমন আজব বাঁচা!
সবকিছু, যা দারুণ লাগে, হাতটা বাড়াই, অমনিই নাই!
কারও আশাতে আরও আশা আসে,
কারও আশাতে হতাশা কেবলই!
বাঁচতে যখন লাগে না ভাল,
জীবন মানে, তখনও বাঁচা!
মানিয়ে নেয়া, মানিয়ে চলা--এইতো জীবন!
 
আর পারি না...আমার যত সত্য আছে, তত্ত্ব আছে--পচছে কেবল!
মিথ্যেগুলি ফানুস ওড়ায়, সত্যি বেশে সময় তাড়ায়,
ভাবনা তোমার আরও ছোট হয় আমারই বেলায়,
কষ্ট আমার শুধু বেড়ে যায় তোমার হেলায়, হেঁয়ালি মেলায়!
কে আমি তোমার, এ জীবনে জানলে না তুমি!
যে প্রেম তোমার নিত্য খেলা,
সে প্রেম আমার জীবনবেলা!
দূরত্ব যা, প্রেমেই ঘোচাই মনেমনে,
প্রস্থানে তুমি আপন হয়েছ,
দূরে সরে আরও কাছে এসেছ,
নেই কোথা বলেই সবখানে আছ.....এখনও, আজও!
কী হবে এমন একটা জীবন কাটলে মোহে!
 
ভালোবাসা আজ অসুখের মত--
ধরতে গেলে কষ্ট বাড়ে,
ছাড়তে গেলে জীবন হারে,
সব ভুলে দুখ পুষলে বুকে
চোখের জলেই হৃদয় পোড়ে...কী এক সুখে!
 
এক তোমাকেই ছাড়া চাইনি তো কিছু,
তবু পেয়েছি কেবল বিরহবিধুর অচল জীবন!
কেউ নেই পাশে, দাঁত দেখিয়ে ঠাট্টা হাসে,
আর পারি না, কান্না এলেও জল আসে না,
কষ্টে এমন আর কত বাঁচা!
 
ভাল থেকো, প্রিয়,
এই বেদনায় বাঁধব না আর,
তোমায় ভেবেই পুড়ব একাকি,
সুখ কখনও নাও আসে যদি,
দুঃখটুকুই হোক না আপন!
ছোট্ট জীবন--কাটুক ব্যথায়,
কী আর হবে!
বিরহ যতটা কাতর করে....কোনওমতে তো সইতে পারি!
ভুলতে পারি না, মনের গহীনে স্থির হয়ে থাকো.....বাঁচার কষ্ট কেবল এটাই!
 
বাজি ধরছি,
কেউ কোনওদিন
এ জীবনে
ভালোবাসে যদি আমার মত,
সেইদিন, জেনো...
ঝরে যাবে সব তারার শরীর,
নক্ষত্ররা বদলাবে দিক,
আগুনের নদী তৃষ্ণা মেটাবে,
জলের উষ্ণ যে তেজ, চোখ পোড়াবে,
সূর্য ওঠার দিক ঘুরবে,
এ পৃথিবী অন্য হবে!
 
হাসছ তো খুব?
ভাবছ হেসে,
এও কি হবে?
অতটা ভালো বাসবে কে আর!
বুঝি, বুঝি, বোঝো সবই!
বুঝেও কী হয়! রাত নেমে যায়,
আমি জেগে রই, তুমিও জাগো,
আমার আমি তোমারই তো রই আগের মতই...সব বুঝেও--
তোমার তুমি আমার না গো!
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *