পত্রসাহিত্য

অচঞ্চল পিয়াসা



প্রিয় গিরগিটি,

কেমন আছ তুমি? অনেক ভালো, নিশ্চয়ই। হয়তো এই চিঠিটাও তুমি ফিরিয়ে দিতে চাইবে! তা জেনেই লিখছি! জানো, কেন? কারণ আমি তোমাকে ভালোবাসি; শুধু তোমাকেই বাসি।

জানো, জীবনে কখনো কখনো ভুল করার আনন্দটাই অন্যরকম হয়; তোমার জীবনে এমনটা হয়েছে কখনো? আমার জীবনে এমনটা হচ্ছে—যখন থেকে তুমি আমার জীবনে এসেছ, যখন থেকে তুমি আমার জীবনের সুখ হয়েছ, হয়েছ হাসি, কান্না, আর বেঁচে থাকার উৎস—আর মরে যেতে চাওয়ার কারণ।

আমার উপর অনেক রাগ আর বিরক্তি, তাই না? গভীর রাতে তোমার মোবাইলে ওয়েটিং পেলে অনেক খারাপ কথা বলি, সন্দেহ করি, বার বার মিসড কল দিই—এইসব। কী করব বলো, তোমার নম্বরে ওয়েটিং পেলে যে আমার মাথায় রক্ত উঠে যায়! তুমি জানো, সারাদিন নিজেকে কত বোঝাই যে, ওয়েটিং পেলে আর উঠব না, দাঁড়াব না, কথা বলব না। আরও কত-কী! কিন্তু ঠিকই ওয়েটিং পেলে বুঝ হারিয়ে ফেলি, আর প্রথমেই আমি ভুল হওয়ার আনন্দ পেতে চাই।

আমি চাই, তোমার ওয়েটিং নিয়ে আমার মনে যত খারাপ কথা আছে, সব যেন মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এই জায়গায় আমি ভুল প্রমাণিত হতে চাই। কেন জানি না, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। মন শুধু ভাবে—যদি তুমি কোনো মেয়ের সাথে কথা বলে থাকো! যদি তাকে আমার মতো করে আদর করে থাকো! যদি সে-ও তোমাকে আমার মতো করে আদর করে থাকে!

তোমার "তুমি"-র শব্দ প্রতিমুহূর্তে কানে বাজে—অনেক আদর, অনেক মায়া, অনেক আনন্দ; তুমি অন্য মেয়ের সাথে এমনটা করছ—ফোনে ওয়েটিং পেলে আমার এমন ভাবনা ভুল প্রমাণিত হওয়ার আশায় আমি বসে আছি। এই ভাবনায় আমি ভুল প্রমাণিত হতে চাই। এমন ভুল করার আনন্দ অনেক—আমাকে ভুল বুঝো না।

আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। এত ভালো তোমাকে এর আগে কেউ বাসেনি, আর কেউ বাসবে না। মা, বাবা, ভাই, বোন, বন্ধু—এদের ভালোবাসার সাথে কারও ভালোবাসার তুলনা কোরো না। এর পরও, জীবন বিশেষ কার‌ও ভালোবাসা চায়, কেউ একজনের বিশেষ প্রয়োজন অনুভূত হয়। সেরকমটা ভালো না বেসেও তুমি বিশেষ মুহূর্তে আমাকে অনুভব করো, আর সেরকমটা আমি তোমাকে ভালোবেসে প্রতিমুহূর্তে করি।

তুমি জানো, তুমি এমন একজন—যার আদর, কথা মনে করি, আর নিজের অজান্তে আমার ঠোঁটের কোণে হাসি ফোটে; আবার নিজের অজান্তেই কেঁদে ফেলি। এত আদর কেন?

বল, তোর জন্য এত মায়া কেন? এত প্রশ্ন কেন? এত বছর তুই কোথায় ছিলি? ২০০৯-এ কেন তোর সাথে পরিচয় হয়নি? তখন আমি মোহাম্মদপুরে ক্লাস করতাম—তখন কেন তোর সাথে পরিচয় হয়নি? তাহলে আমি এত বছরে তোর আদরে আদরে পূর্ণ হয়ে যেতাম, তাহলে আমার জীবনে অপূর্ণতা গ্রাস করত না। তুই জানিস, তোর আদর কত মায়াময়, তোর মন কত সুন্দর, আর ভালোবাসা কত গভীর! তুই কত সুন্দর করে ভালোবাসতে পারিস! জানিস তুই?

আমার সারাজীবনের সব অপেক্ষা এমন ভালোবাসার জন্যই। আমার মনে জমে-যাওয়া সব ভালোবাসা তো এমন কারুর জন্যই ছিল—যে ভালোবাসতে জানে। আমি কখনোই চাইনি, কেউ ছেড়ে আসুক; আমি চেয়েছি, কোনো একজনকে কেউ একজন ছেড়ে যাক—পৃথিবীর সব ভালোবাসা তো তার জন্যই।

তুমি আমার জীবনে না এলে আমি কখনও অনুভব করতে পারতাম না, সত্যিকারের ভালোবাসার অনুভূতি কেমন হয়! বাসো না ভালো একটু, আমাকে একটু ভালোবাসো!

জানো, আমি শুধু স্বপ্ন দেখি, তুমি বাইরে চলে যাচ্ছ; প্রায়‌ই দেখি, তুমি বাইরে চলে যাচ্ছ আর আমিও যাচ্ছি তোমার পিছু পিছু। জানি না কেন এমন দেখি—আর ঘুমের মধ্যেই কেঁদে দিই! কালও দেখেছি। আর পরশু দেখেছি, তুমি আমার উপর চরম রাগ করেছ। তুমি নীল রঙের স্যুট-প্যান্ট পরেছ—ভেবে দেখো তো, কেমন অদ্ভুত দেখিয়েছে তোমাকে!

আচ্ছা বলো না, এত আদর কেন? তোকে খুব বেশি আদর করতে ইচ্ছে করে—খুউব খুউব! এবার দেখা হলে তোকে অনেক আদর করব, অনেক অনেক...... পাগলের মতো আদর করব। অচঞ্চল মন, অচঞ্চল পিপাসা...অনেক বেশি পিপাসা...

হয়তো এই চিঠিটাও নিতে চাইবে না, কিন্তু আমার কলম ধরার ক্ষমতা যতদিন থাকবে, ততদিন আমি তোমাকে লিখব। তুমি পৃথিবীর যে-প্রান্তেই থাকো না কেন, লিখবই আমি! সবখানেই আমার ভালোবাসার স্মৃতি রেখে যাব! আজ নেবে না, তবে একদিন খুঁজে খুঁজে নেবে। আর নাহয় এইসব পত্র একদিন ধুলোয় মিশে যাবে।

ইতি,
তোমার টিকটিকি
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *